সোমবার, ০৩ মে ২০২১, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

নিউইয়র্কে হোটেল হয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল

মাসখানেক আগেও নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম জমজমাট হোটেল ছিল হিলটন ইন্টারন্যাশনাল। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ম্যানহাটনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হোটেলটি এখন একটি পুরোপুরি হাসপাতালে রূপান্তরিত। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ওই শহরের হোটেলগুলোকে এভাবে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে তারা দেড় হাজার কক্ষ ভাড়া নিয়ে হাসপাতালের শয্যা তৈরির জন্য হোটেলমালিকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
এসব হোটেলে আপাতত করোনোভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে না। অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ও নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের সেখানে রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি নিউজ ও স্পেকট্রাম নিউজ এই তথ্য জানাচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যান্ড্রু কুয়োমো বাংলাদেশ সময় শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শহরে প্রতিদিন নতুন করে কমপক্ষে দুই হাজার মানুষ করোনোভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। শহরের হাসপাতালগুলোতে শয্যা আছে মাত্র ৩৭ হাজার। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শহরে ১ লাখ ১০ হাজার শয্যার দরকার হতে পারে। তাই এখন থেকেই হোটেলগুলোকে হাসপাতালে রূপান্তর করা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পসহ কয়েকটি স্থানে প্রবাসীসহ অনেককে কোয়ারেন্টিনে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যারা করোনায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে, এসব রোগী আলাদা করা উচিত। আবাসিক হোটেলে কী কী সুযোগ-সুবিধা আছে, এর একটি দ্রুত সমীক্ষা করা দরকার। যাতে বিদেশ থেকে আসা সচ্ছল ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন করে রাখার জন্য অর্থের বিনিময়ে হোটেলে রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ রোগ ও সমস্যা নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছে, তাদেরও এসব স্থানে সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে যাদের করোনার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া উচিত। সবার আগে জরুরি যেসব চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিচ্ছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
চীনের পথে নিউইয়র্ক
হোটেলগুলোকে হাসপাতালে পরিণত করার এই পথ অবশ্য দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। দেশটির করোনা ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কেন্দ্র উহান শহরে শুরু থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শহরটির সব হোটেলকে সরকার হাসপাতালে পরিণত করে। সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসকদের নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালে পরিণত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্পেনের মাদ্রিদ, যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ বড় শহরগুলো ও পর্তুগালের লিসবন শহরে একই উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এসব শহরের হোটেলগুলো বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া নিয়ে হাসপাতালে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার।
শহরের হোটেলগুলোকে হাসপাতালে পরিণত করার এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবশ্য জোরালো অবস্থান নিয়েছে হোটেল অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক। সংগঠনটির সভাপতি বিজয় দন্ডপানি স্পেকট্রাম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হোটেলগুলোকে হাসপাতালে পরিণত করার সিদ্ধান্ত এই শিল্পের পায়ে কুঠারাঘাত করার শামিল। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে।
নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশনের এই পথে অবশ্য মাদ্রিদ ও লন্ডনের মতো বড় শহরগুলো হাঁটতে চেয়েছিল। তবে সেখানকার বেশির ভাগ হোটেল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেনি। তারা তাদের মালিকানাধীন হোটেলগুলোকে হোটেলে পরিণত করতে দিতে রাজি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মালিকানাধীন দুটি হোটেলকে হাসপাতালে পরিণত করার জন্য দেশটির সরকার থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু রোনালদো তাতে রাজি হননি।
তবে নিউইয়র্কে এরই মধ্যে তিনটি হোটেলের ২৫০টি কক্ষকে হাসপাতালের শয্যায় পরিণত করেছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দেশটির ফেডারেল সরকারের কাছে করোনো মোকাবিলার জন্য সহযোগিতা চেয়েছে। তারা আগামী এপ্রিলের মধ্যে ৩০ লাখ স্থায়ী মাস্ক, ৫ কোটি সার্জিক্যাল মাস্ক, ৫০ হাজার কৃত্রিম নিশ্বাস নেওয়ার যন্ত্র ও আড়াই লাখ হাতের গ্লাভস দরকার বলে জানিয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী থেকে শহরের উপকণ্ঠে সাগরের তীরে এক হাজার শয্যার একটি হাসপাতালসহ জাহাজ এসে ভিড়েছে। সেখানেও রোগী ভর্তি করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 Bdwebs.com
Design & Developed BY Bdwebs.com